Second-Chance
ভাড়াটে বউ · রিহা ও সানভি

চার বছর পর দেখা। সানভি চাকরি দিবে—এক শর্তে। রিহা রাজি হবে কি? সবুজ শাড়ি পরে দরজায় দাঁড়ায়।
স্যার বেডরুমে আসতে বললেন যে?
দরজার দিকে ফিরে তাকায় সানভি। তাকিয়েই দেখে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে রিহা। কিছুটা থমকে দেখে তাকে। আজ আবার অনেকদিন পর দেখলো তাকে। প্রায় চার বছর পর। সানভি ঘোর কাটিয়ে উত্তর দেয়।
— কোনো সমস্যা আছে বেডরুমে ডাকায়?
— না স্যার, কোনো সমস্যা নাই। আমি কি আসবো?
— হ্যাঁ, আসো।
রিহা ঢোকে।
— স্যার, আমার ব্যাপারটা নিয়ে কী ভাবলেন?
— তোমার চাকরিটা দরকার তাই তো?
— হ্যাঁ স্যার, চাকরিটা আমার অনেক দরকার।
— চাকরি দিতে পারি—এক শর্তে।
— কী শর্ত?
— আমাকে ভালোবাসতে হবে। আমার সাথে থাকতে হবে সবসময়। রান্না করতে হবে, খাইয়ে দিতে হবে, আর আমাকে ঘুম পাড়িয়ে তুমি চলে যাবে। ব্যাস—তোমার কাজ শেষ। এটাই তোমার চাকরি। আর বেতন চল্লিশ হাজার টাকা।
— স্যার, এটা কী বলছেন?
— ভেবে দেখো।
— স্যার, আমি কালকে জানাই?
— আচ্ছা। বাসায় এসো, সমস্যা নাই।
— আচ্ছা… আমি আসি তাহলে স্যার।
— আচ্ছা, যাও।
রিহা বেরোনোর মুখে সানভি আবার বলে—
— আর শোনো। শাড়ি পরে আসবা কালকে থেকে—যদি কাজটা করতে চাও তাহলে।
— জ্বি স্যার।
রিহা বেরিয়ে যায় রুম থেকে। মনে করে চার বছর আগের ঘটনা—যখন সানভি তাকে প্রপোজ করেছিল। কিন্তু রিহা ফিরিয়ে দিয়েছিল। অনেক ঘোরার পরও যখন রিহা রাজি হলো না, তখন সানভি বলেছিল—তোমাকে ভালোবাসতেই হবে। আমি আদায় করে নেব।
সেই যে গিয়েছিল ছেলেটা, তারপর আর চার বছর দেখা মেলেনি তার। আজ চার বছর পর হঠাৎ এমন একটা জায়গায় দেখা হবে—কখনো ভাবেনি রিহা।
সত্যিই সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছু বদলে যায়। যেমন বাবা মারা যাওয়ার পর বদলে গেছে রিহার জীবন। আর সানভি তো আগে থেকেই বাবা-মা হারা। তবে সানভিরও অনেক কিছু বদলে গেছে। চার বছর আগে আজকের সানভি সেই সানভি ছিল না। ছিল না এত টাকা, এমন জায়গায়—কীভাবে আসছে সেটা শুধু সে নিজেই জানে।
জেদ মানুষকে অনেক কিছু দেয়। তেমন তাকেও দিয়েছে। সানভি চেয়ার থেকে উঠে জানালার পাশে এসে ব্যস্ত ঢাকা শহরটাকে দেখে। মনে পড়ে যায় সেই গ্রামের কথা—যেখানে রিহা আর সানভি একই কলেজে পড়ত। সানভি তার মামার বাসায় থাকত। আর রিহার বাবার অনেক টাকা ছিল, তাই সবসময় ভাব নিয়ে চলত। সানভির ভালো লাগত তাকে, কিন্তু সাহস করে বলতে পারেনি। আর যখন বলল—অনেক অপমান করেছিল রিহা।
এরপর সানভি পালিয়ে আসে ঢাকা শহরে। তারপর একটা দোকানে কাজ করতে করতে আজ সে এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যেখানে খুব কম লোকই আছে। আর রিহার ভাগ্য ক্রমশই খারাপ হতে থাকে সানভি চলে আসার পর। এক বছর আগে বাবা মারা যায়। আর সব সম্পত্তি হাতিয়ে নেয় তার চাচা। তারপর সবশেষে চলে আসে ঢাকা শহরে। একটা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে রিহা আর তার মা—সাথে আছে ছোট বোনটাও।
চাল নেই ঘরে। পড়নের কাপড় নেই। আর নেই মায়ের ঔষধ। বাধ্য হয়েই চাকরির খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। ভাগ্যের টানে সানভির কাছে চলে আসে। তারপর বাকিটা তো পড়লেই।
রিহা বাসায় এসে ভাবতে থাকে—চল্লিশ হাজার টাকা বেতন। কিন্তু সানভি যে চাকরিটা দিয়েছে সেটা কীভাবে মেনে নেবে? আর সে চার বছর আগে ফিরিয়ে দেওয়া সানভিকে আজ কীভাবে মেনে নেবে?
পাশের রুম থেকে কাশি উঠে তার মা। সব চিন্তা মুছে ফেলে—চাকরিটা তার দরকার। জীবন বদলে যাবে তার। হয়তো আবারো ভালো একটা পজিশনে থাকবে সে। তখন চাকরিটা ছেড়ে দিলেই হবে। তবে সানভি তাকে আজও ভোলেনি।
রিহা ঠিক করে নিল—চাকরিটা সে করবে। হার মেনে নেয় ভাগ্যের কাছে। বাস্তবতা বড়ই কঠিন—সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে আজ এক বছর যাবৎ।
ওদিকে সানভিও জানে রিহা রাজি হবে। কারণ যে লোকটা তার কথা বলেছিল, সে তার সম্পর্কে সবকিছু বলে দিয়েছে। বলতে পারেন—টাকায় কেনা ভালোবাসা। সানভি বলেছিল রিহাকে ভালোবাসতে হবে। আর তাই হতে চলেছে। বিজয়ের হাসি দেয় সানভি।
রাতে রিহা খেতে বসে। আবারো বিরক্ত—আজও সেই আলু ভর্তা আর ডাল।
— আম্মু, আবারো ডাল।
— কী করব মা বল? দোকানে আর বাকি দিবে না। তবুও অনেক চেয়ে ডাল আনছি।
— আম্মু, জীবন বদলাতে চলেছে। আমি চাকরি পেয়ে গেছি।
— সত্যিই মা? তুই চাকরি পেয়েছিস?
— হুম মা। চল্লিশ হাজার টাকা বেতন।
— কিসের চাকরি মা?
— জানি না। কালকে বলবে।
উত্তর দিতে পারে না রিহা। কী উত্তর দিবে সে? বলবে যে একজনকে ভালোবাসার বিনিময়ে টাকা দিবে?
রিহা খাবার রেখে উঠে রুমে চলে যায়। গিয়ে কাঁদতে থাকে বালিশে মুখ লুকিয়ে।
সারারাত ঘুমাতে পারে না রিহা। কারণ কালকে থেকে যে নতুন দিনের শুরু।
পরের দিন আটটা বাজতেই বেরিয়ে যায় রিহা। মনের মধ্যে ভয় কাজ করে তার। কী হবে ভাবতে পারে না। সানভির বাসায় গিয়ে বেল বাজাতেই দরজা খুলে দেয় সানভি। দরজা খুলে অবাক হয়ে দেখতে থাকে রিহাকে।
খোলা চুল আর সবুজ শাড়িতে পরীর মতো লাগছে তাকে।
**আরও পড়ুন**
- বৌদি আর দেবরের মিলন
- হোলির দিন · পরিবারের অদলবদল
University Apu · Full Watch Video
▶ Full Watch Video